বছরান্তে এমন একটি মাস আসে, যে মাসটি আল্লাহ নিজেই “সম্মানিত” করেছেন। একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা যাক; আপনি কি জানেন, বছরের সেই মাসে গুনাহ আরও ভয়ংকর, আর নেকি আরও মূল্যবান হয়ে যায়?
সেই মাসের নামঃ রজব।
কোনো উৎসব নেই।
কোনো বাধ্যতামূলক আমল নেই।
তবুও এই মাসটি ইসলামে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কারণ…
এটি আল্লাহর নির্ধারিত চারটি পবিত্র মাসের একটি।
রজব মাসের তাৎপর্য কী?
আল্লাহ কুরআনে বলেন;
বছরের বারো মাসের মধ্যে চারটি মাস বিশেষভাবে সম্মানিত।
রজব সেই চারটির একটি।
পবিত্র মাস মানে কী?
গুনাহ এখানে আরও গুরুতর
জুলুম আরও ভয়ংকর
আর নেক আমল আরও ভারী ও মূল্যবান
ইসলামের আগেও আরবরা এই মাসে যুদ্ধ বন্ধ রাখত। ইসলাম এসে এই মাসকে শুধু সামাজিক নয়, আত্মিকভাবেও পবিত্র ঘোষণা করল।
রজব আমাদের শেখায়ঃ
থামতে
নিজের আমল দেখতে
আল্লাহর দিকে পরিপূর্ণ ভাবে ফিরতে
রজব মাসে একজন মুসলিম কী শিখবে?
রজব কোনো “আমলের প্রদর্শনী” চায় না।
সে চায় ভিতরের সংস্কার/পরিবর্তন ।
এই মাসে শেখার তিনটি মূল শিক্ষাঃ
১️. গুনাহের সাথে সম্পর্ক নতুন করে ভাবা। যে গুনাহগুলোকে আমরা “ছোট” ভাবি, রজব এসে সেগুলোকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়।
২️. ইবাদতের সাথে বন্ধুত্ব করা। লম্বা ইবাদত নয়, বরং নিয়মিত, শান্ত, উপস্থিত হৃদয়ের ইবাদত।
৩️. রমজানের জন্য মানসিক প্রস্তুতি। যে ব্যক্তি রজবে নিজেকে গুছায় না, তার জন্য রমাদান হঠাৎ খুব ভারী হয়ে যায়।
রজব মাসের আমল কী কী?
নফল সালাত
কোরআন তিলাওয়াত
ইস্তিগফার ও তাওবা
নফল রোজা (নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ না করে)
দান ও নেক কাজ
কোনো নির্দিষ্ট রাত
কোনো নির্দিষ্ট নামাজ
কোনো বাধ্যতামূলক আমল
এটাই রজবের সৌন্দর্যঃ কম চাপ, বেশি সচেতনতা।
ঠিক এখানেই… রজব ও শা‘বান এলেই একটি দোয়া যুগ যুগ ধরে মুসলিমদের মুখে ঘুরেঃ
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
উচ্চারনঃ
আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রজাবিন ওয়া শা‘বান, ওয়া বালিগনা রমাদান।
অর্থঃ
হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শা‘বান মাসে বারাকাহ দিন
এবং আমাদেরকে রমাদান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।
এই দোয়া ছোট, কিন্তু এর ভেতরে আছে একজন মুমিনের পুরো রমাদান-যাত্রা।
এই দোয়ার তাৎপর্য কী?
“বারাকাহ”
অল্প আমলে গভীরতা
কম সময়েও পরিবর্তন
ইবাদতে প্রশান্তি
এটা শুধুমাত্র দোয়া নয়। এটা অবস্থা ঠিক রেখে পৌঁছানোর দোয়া। কারণ সবাই রমাদান পায়, কিন্তু সবাই রমাদানে পরিপূর্ণ আমল করতে পারেনা।
এই দোয়াটি হাদিস হিসেবে দুর্বল সনদে বর্ণিত, তাই সুন্নত বলে নির্দিষ্ট করা যাবে না। কিন্তু অর্থ শুদ্ধ হওয়াই সাধারণ দোয়া হিসেবে পড়া জায়েজ। ইলম মানে ভারী হওয়া নয়, বরং ইলম মানে সঠিক থাকা।
রজব আমাদের দিয়ে বেশি কিছু করাতে চায় না, সে শুধু বলে;
“একটু থামো, নিজেকে দেখো। আর আল্লাহর কাছে সৎভাবে বলো; হে আল্লাহ, আমাকে প্রস্তুত করো।”
হয়তো এই রজবেই আপনার ইবাদত বদলাবে না, কিন্তু নিয়ত বদলাবে। আর নিয়ত ঠিক হয়ে গেলে বাকি পথ আল্লাহ নিজেই সহজ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।
এই রজবকে অবহেলা করবেন না।
এটি নিঃসন্দেহে জীবন বদলানোর মাস।
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبَ وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
“হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শা’বানে বারাকাহ দান করুন এবং আমাদের রমাদান পর্যন্ত পৌঁছানোর তাওফিক দিন।”
(মুসনাদ আহমাদ: ২৩৪৬৩)
